659277_637199674098468958_16x9

ছাত্রজীবনেই যে ১০ সফটওয়্যারের কাজ শেখা উচিত

নিজেকে এগিয়ে রাখতে ছাত্রাবস্থায়ই কিছু কিছু সফটওয়্যারের কাজ শেখা শুরু করা উচিত। জেনে নিন এমন ১০ সফটওয়্যারের কথা।

১. লেখালেখির জন্য

এখনকার সময়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড না শিখে, না জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়া এক রকম অসম্ভব। শুধু লেখালেখা নয়, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে আরও নানা ধরনের কাজ করা যায়। চাইলে ছবি, নকশা, গ্রাফ বসিয়ে কোনো গবেষণাপত্র চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা যায় এই সফটওয়্যারে।

২. প্রেজেন্টেশনের জন্য

বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা মানবিক যে বিভাগেই পড়ুন না কেন, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন তৈরি ও উপস্থাপন আপনাকে জানতেই হবে। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিষয়ের কোনো না কোনো কোর্সে প্রেজেন্টেশন বাধ্যতামূলক থাকে। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট নিজে না জানলে পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

৩. হিসাব-নিকাশে উপকারী

মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যারটির ব্যবহার ও প্রয়োগ জানা এখন বেশ গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। একটা সময় ধারণা ছিল, মাইক্রোসফট এক্সেল শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জানা থাকলেই হলো। সময় এখন অনেক বদলেছে। বিজ্ঞান কিংবা বাণিজ্য যা-ই পড়ুন না কেন, তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপনের জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল শেখা খুব জরুরি। মাইক্রোসফট এক্সেলের কাজ জানা থাকলে আপনি সেটি সিভিতেও যোগ করতে পারবেন।

৪. বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য

বিজ্ঞান, প্রকৌশল কিংবা গণিতে পড়ুয়াদের জন্য এমএটিল্যাব বা ম্যাটল্যাব সফটওয়্যার সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা বিশ্লেষণ, অ্যালগরিদম তৈরি কিংবা গাণিতিক মডেল তৈরির জন্য ম্যাটল্যাব খুব কাজের। এখন বিশ্লেষণধর্মী পড়াশোনা ও গবেষণার গুরুত্ব বাড়ছে, কর্মক্ষেত্রেও তথ্য বিশ্লেষণ-অ্যালগরিদম নিয়ে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানের সব শিক্ষার্থীরই ম্যাটল্যাব সম্পর্কে জানা উচিত।

৫. ছবি সম্পাদনা

প্রেজেন্টেশনে ভালো ছবি উপস্থাপনের জন্য কিংবা কর্মক্ষেত্রেও হঠাৎ ছবি সম্পাদনার কাজ প্রয়োজন হতে পারে। প্রেজেন্টেশনে আপনি যা বোঝাতে চাইছেন, ঠিক আপনার মনের মতো ছবি হয়তো গুগলে পাবেন না। অ্যাডোব ফটোশপের কাজ জানা থাকলে ছবিগুলো একটু সাজিয়ে নিতে পারবেন। এতে আপনার প্রেজেন্টেশন আরও আকর্ষণীয় হবে।

৬. ভিডিও সম্পাদনাও জরুরি

এখন শখের কাজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রজেক্টেও শিক্ষার্থীরা ভিডিওচিত্রের সাহায্য নেন। ভিডিও সম্পাদনা আর দৃষ্টিনন্দন ভিডিও ক্লিপ তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে মাইক্রোসফট মুভি মেকার দিয়ে কাজ চালানো যায়। আরেকটু ভালো মানের কাজের জন্য অ্যাডোব প্রিমিয়ারের মতো সফটওয়্যার শিখে নিতে পারেন।

৭. আঁকাআঁকি, নকশা ও গ্রাফিকস

টুকটাক নকশার কাজ নানা প্রয়োজনেই আমাদের করতে হয়। নিজের প্রয়োজনে অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটরের কাজ শিখে নিলে গ্রাফিকস-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ বেশ সহজ হয়ে যায়। বিজ্ঞান ও স্থাপত্য বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বা সিএডি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে নানান প্রজেক্ট আর গবেষণায় সিএডি ধরনের সফটওয়্যারগুলোর বিভিন্ন প্রয়োগ দেখা যায়। অটোক্যাড আর ভেক্টরওয়ার্কসও শিখে রাখতে পারেন।

৮. তথ্য গবেষণার জন্য

বাজার বিশ্লেষণ, গবেষণা ব্যাখ্যা কিংবা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এসপিএসএস স্ট্যাটিস্টিকস সফটওয়্যার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরু থেকেই এ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত। এই সফটওয়্যারটির বহুমাত্রিক ব্যবহার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নয়, যেকোন ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োগ করা হয়।

৯. ব্যবসা-বিপণনে যা প্রয়োজন

যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়ছেন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে নিজের উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করবেন, তাঁদের জন্য হিসাববিজ্ঞান ও গ্রাহক সেবাসম্পর্কিত সফটওয়্যার জানা থাকা ভালো। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোটাই অনলাইনে চলে এসেছে। এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স সফটওয়্যার এসএপি, গ্রাহক সেবাসম্পর্কিত সফটওয়্যার সেলসফোর্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের জন্য ট্যালি সফটওয়্যার সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান থাকা দরকার।

১০. আরও যা জানা জরুরি

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও রেফারেন্সিংয়ের জন্য এন্ডনোট সফটওয়্যারটি শিখে নিতে পারেন। নিজের পোর্টফোলিও বা জীবনবৃত্তান্ত নিখুঁতভাবে তৈরির জন্য অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট রিডার-এডিটর ও ফক্সিট পিডিএফ এডিটরের কাজ শিখলে সেটিও কাজে আসবে।

google-search-getting-continues-scrolling-feature-all-you-need-to-know

আরও সহজ হচ্ছে Google Search, আসছে এই চমৎকার ফিচার

বেশি ভিজিটর পাওয়ার জন্য Google Search-এ টপ র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার চেষ্টা সমস্ত ওয়েবসাইটই করে থাকে। কেউ সার্চ করলে যেন Google-এর ফার্স্ট পেজেই তাদের খুঁজে পায় – এমন ভাবনা প্রায় সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা পাবলিশরদের মাথাতেই থাকে এবং সমসাময়িক কম্পিটিটরদের মধ্যে Google Search করলে কোন পেজে কাকে আগে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে এই নিয়ে একটা রেষারেষিও চলতে থাকে। কিন্তু এবার থেকে হয়তো মোবাইলের ক্ষেত্রে এই টক্কর আর দেখা যাবে না, কারণ মোবাইল ডিভাইসগুলির জন্য Google নিয়ে এসেছে এক নতুন ফিচার।


টেক জায়েন্টটি ঘোষণা করেছে যে, কোনো কিছু জানার জন্য মোবাইলে গুগল সার্চ করলে এখন আর ফার্স্ট পেজ, সেকেন্ড পেজ বলে কিছু থাকবে না, ইউজাররা ক্রমাগত স্ক্রল করতে থাকলেই একের পর এক রেজাল্ট তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। উল্লেখ্য যে, আগে গুগল সার্চ করলে ফার্স্ট পেজে কিছু রেজাল্ট পাওয়া যেত, তারপর “See more” বাটনে ক্লিক করলে ইউজাররা সেকেন্ড পেজে আরও কিছু রেজাল্ট দেখতে পেতেন এবং এইভাবে ক্রমাগত চলতে থাকত। কিন্তু এখন মোবাইলে একের পর এক সার্চ রেজাল্ট দেখার জন্য ইউজারদের আর কোনো বাটন আলাদা করে প্রেস করতে হবে না, ক্রমাগত স্ক্রল করতে থাকলেই তাদের চোখের সামনে পরপর সার্চ রেজাল্টগুলি আসতে থাকবে।


আসন্ন এই ফিচারটি সম্পর্কে একটি ব্লগ পোস্টে গুগল বিশদে ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থার মতে, অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যে সকল মানুষ গুগল সার্চ করেন, তারা বড়জোর চার নম্বর পেজ পর্যন্ত ব্রাউজ করে থাকেন। কিন্তু এই নতুন আপডেটের ফলে ইউজাররা এখন নির্বিঘ্নে তাদের হাতের মুঠোফোনে যতক্ষণ খুশি গুগল সার্চ করা চালিয়ে যেতে পারবেন, কোনো এক্সট্রা বাটন প্রেস করার প্রয়োজন হবে না।নতুন এই ফিচারটি ধীরে ধীরে রোলআউট হওয়া শুরু হবে। এটি সর্বপ্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপলব্ধ হবে এবং ইংরেজি ভাষায় Search রেজাল্টের জন্য কাজ করবে। তবে বিভিন্ন ভাষায় Google Search রেজাল্ট সহ অন্যান্য দেশে এই ফিচারটির সুবিধা কবে থেকে পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।