Facebook_Marketing_Strategy

সেল বা ব্যবসার প্রসারে ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে শুরু করতে পারি।

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ফেসবুক মার্কেটিং। ফেসবুক মার্কেটিং এ আমরা সবাই অনেক বেশী অভ্যস্ত। কারণ হলো দিন শেষে আমরা জীবনের অনেক বড় একটা সময় কাটাই ফেসবুকে। কেউবা নিউজ ফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে কেউবা মেসেঞ্জার গ্রুপে আড্ডা দিয়ে কেউ ভিডিও দেখতে দেখতে।

এই যে আমাদের জীবনের সময়ের একটি বড় অংশ ফেসবুকে আছে  এটার কারণে আমাদের ফেসবুকে মার্কেটিং করে অনেক লাভও আছে। কারণ দিন শেষে আপনি যে প্রোডাক্টই বিক্রি করেন না কেন তার জন্য যে কনসিউমার বা কাস্টমার দরকার তারা কিন্তু ফেসবুকেই আছে। তাই তাদেরকে তারগেট করে মার্কেটিং করার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন?

ফেসবুকে সাধারণত দুইভাবে মার্কেটিং করা যায়।  পেইড মার্কেটিং আর অর্গানিক মার্কেটিং।

পেইড মার্কেটিং:ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট টাকা দিয়ে বুস্ট করার মাধ্যমে যে মার্কেটিং করা। এটাই হচ্ছে পেইজ মার্কেটিং।

অর্গানিক মার্কেটিং: কোন পোস্ট বুস্ট ছাড়া যেসব মার্কেটিং করা হয় সেগুলো মূলত অর্গানিক  মার্কেটিং। অর্থাৎ যে মার্কেটিং করতে কোন টাকা ব্যায় হয় না সেগুলোই অর্গানিক মার্কেটিং।

যেহেতু বুস্ট বা পেইড মার্কেটিং টাকা দিয়ে করতে হয়। সেহুতু  এটি নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। আজকে আমাদের মূল আলোচনার বিষয় থাকবে অর্গানিক মার্কেটিং নিয়ে। 

পেইড মার্কেটিং কিভাবে করবেন?  

যখন আপনি কোন পেইজ এ পোস্ট করেন তখন তার নিচে দেখবেন একটা বুস্ট পোস্ট নামে অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করলে আপনাকে বলবে যে আপনি কাদের কাছে পোস্টটা বুস্ট করতে চাচ্ছেন বা পৌঁছাতে চাচ্ছেন। আপনি সেখানে সবকিছু সেট করে দিতে পারবেন। যেমন ধরুন বয়স; আপনি কোন বয়সের মানুষের  কাছে এই পোস্ট টা পাঠাতে চাচ্ছেন। অথবা ছেলের কাছে পাঠাতে যাচ্ছে না মেয়ের কাছে পাঠাতে চাচ্ছে।না উভয়ের কাছেই পাঠাতে চাচ্ছেন। নির্দিষ্ট কোন শহরে পাঠাতে চাচ্ছেন না নির্দিষ্ট কোন দেশে। এভাবে সবকিছু কাস্টমাইজ করার পর আপনি বলবেন যে প্রতিদিন 30 ডলার করে পোস্টটি বুস্ট করো।

তখন ফেসবুক বলে দিবে যে আপনার এই 30 ডলার দিয়ে আপনার টার্গেট ইউজারদের মধ্যে এতজন থেকে এজনের মধ্যে আমরা পৌঁছে দিতে পারব আপনার পোষ্টটি। আপনি চাইলে কিন্তু এভাবে টাকা খরচ করে সহজেই পেইট মার্কেটিং করতে পারেন।

অর্গানিক মার্কেটিং করবেন কিভাবে

ফেসবুকে পেইড মার্কেটিং করে কিন্তু খুব কম মানুষই। সর্বোচ্চ 5 শতাংশ মানুষ পেইট মার্কেটিং করে থাকে যারা মূলত প্রফেশনাল ভাবে কাজ করে। বাকি 95 শতাংশ মানুষ চেষ্টা করে টাকা খরচ না করেই কিভাবে ফেসবুক টাকে ব্যবহার করা যায় বা ফেসবুক মার্কেটিং করা যায়। আজকের আর্টিকেলটা কিন্তু মূলত তাদের জন্যই।

ফেসবুকে নিজের আইডি ছাড়া আর আমরা দুটো জিনিস ব্যবহার করতে পারি একটি ফেসবুক পেজ এবং ফেসবুক গ্রুপ

পেইজে এবং গ্রুপের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন থাকতে পারে কোনটা দিয়ে শুরু করবো। এক্ষেত্রে বলব দুটো দিয়েই শুরু করতে হবে একসাথে।

পেইজ:কারণ পেইজ হলো one way communication। যেকোনো একটা প্রতিষ্ঠান  সবসময় কথা বলে ভিডিও দে পোস্ট করে ছবি দেয়। তখন কাস্টমার সেগুলো দেখে পর তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।

গ্রুপ: অন্যদিকে গ্রুপ হলো একটি কমিউনিটি। সেখানে আপনি যেমন পোস্ট দেন গ্রুপের মেম্বাররা পোস্ট দেয় তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে। তার মানে এখানে একটা সুন্দর কমিউনিটি তৈরি হয়। তাই ফেসবুকে মার্কেটিং করার জন্য পেইজ এবং গ্রুপে দুটোকে একসাথে শুরু করাই ভালো।

মনে করুন  আপনি ঘড়ি ব্যবসা করেন। আপনার পেইজের নাম হচ্ছে bd watch. এই পেজে যখনই পোস্ট করতেছেন ঠিক তখন কিন্তু মানুষ দেখতে পাচ্ছে। এখন চিন্তা করুন আপনি bd watch নামে ফেসবুকে একটি গ্রুপও খুললেন।

তখন কিন্তু যারা ঘড়ি পছন্দ করে, তারা কিন্তু সবাই আপনার BD watch গ্রুপে যোগ হতে থাকবে। অথবা আপনি আপনার ফ্রেন্ড দের গ্রুপে ইনভাইট করে গ্রুপ টা বড় করে নিতে পারেন।

এর ফলে কি লাভ? যখন গ্রুপ বড় হতে থাকবে তখন কিন্তু আপনাকে শুধু আপনার ঘড়ির ছবি পোস্ট দিতে হবে তা না। সেখানে গ্রুপের বাকি মেম্বারদের পোস্ট দিতে বলতে পারেন। তখন গ্রুপের মেম্বাররা তাদের পছন্দের ছবি বা পছন্দের ব্র্যান্ডের ঘড়ি ছবি আপলোড দিতে শুরু করল। এই কমিউনিটির ফলে আপনার এই গ্রুপটা আছে আস্তে বড় হয়ে থাকবে।

যদি গ্রুপ টা আপনার কিছুদিন পর যখন অনেক বড় হবে,তখন কাভারে আপনার প্রতিষ্ঠান নামি তো আছে। আপনার ঘড়ি কিভাবে অর্ডার করা হয় সেটাও দেওয়া আছে। তার মানে যারা ঘড়ি পছন্দ করে, যারা ঘড়ি নিয়ে খুবই ইন্টারেস্টেড তারা কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান ব্যাপারেও জনল। এর মাধ্যমে আপনার সেলও বেড়ে যাবে অনেক বেশি।

কোন ধরনের কনটেন্ট দিবেন

ফেসবুক সাধারণত তিন ধরনের কনটেন্ট হয়ে থাকে। ছবি দিতে পারেন,কোন কনটেন্ট  দিতে পারেন অথবা ভিডিও আপলোড করতে।

লেখালেখি করলে আপনাকে সেগুলো নিয়ে  অবশ্যই অনেক ঘাটাঘাটি করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে কপিরাইটিং স্কিল বাড়াতে হবে। কপিরাইটিং স্বেশ কয়েকটি ফর্মুলা আছে। সেগুলো জানতে হবে। আপনি একটি গুগোল করলে এরকম অনেকগুলো ফর্মুলা পেয়ে যাবেন।

এছাড়া আপনি যদি ছবি আপলোড করতে চাই। ফটো এডিটিং সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনারা সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফটো বানিয়ে আপলোড করতে পারবেন। দ্রুত এবং সহজভাবে ফটো এডিট করার জন্য আপনারা  canva ব্যবহার করতে পারেন। এটি পেইট এবং ফ্রি দুই ভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি ভিডিও আপলোড করতে পারেন। যেটা বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়।

পোস্ট করার আগে যে জিনিস গুলো খেয়াল রাখবেন

স্পেশালি যখন আপনি ভিডিও আপলোড করবেন তখন এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টাইটেল এবং থাম্বেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করণ আপনার ভিডিও নিউজ ফিডে অনেক জন স্ক্রল  করে যেতে পারে। এখন আপনার ভিডিওর উপর ক্লিক করবে কি করবে না বা দেখবে কি দেখবে না সেটা নির্ভর করে দুটো জিনিসের উপর। সেগুলো হল:

  • থাম্বেল
  • ক্যাপশন বা টাইটেল

যদি আপনার ভিডিওর ওই টাইটেল এবং থাম্বেল ভালো না হয় তাহলে মানুষ কিন্তু আপনার ভিডিওটায় ক্লিক করবে না। তাই ভিডিও যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওর ক্যাপশন এবং থাম্বেল।

যখন একটা ভিডিও আপলোড করবেন সেখানে আপনার কিছু ট্যাগ দেওয়ার অপশন থাকে।এ ক্ষেত্রে  ভিডিওটি যদি মোবাইল রিলেটেড হয় তাহলে মোবাইল রিলেটেড কিছু ট্যাগ ব্যবহার করবেন।ট্যাগ ব্যাবহার করলে যখন কেউ সেই ট্যাগ রিলেটেড কিছু দিয়ে সার্চ করবে তখন আপনার ভিডিওটি দেখাবে। তাই ভিডিওতে ট্যাগ ব্যবহার করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

রাইটস্ ম্যানেজার এর সঠিক ব্যবহার

আপনার ভিডিও দেখবেন আরেকজন কপি করে ডাউনলোড করে তার পেইজে আপলোড করেছে। এই কাজ টা যেন কেউ না করতে পারে তার জন্য আপনার রাইট ম্যানেজার অন করে রাখবেন। ফেসবুক তখন ট্রাক করে, আপনার ভিডিও যদি কেউ ডাউনলোড করে আপলোড করে তখন নিচে লেখা আসে “এই ভিডিও কপিরাইট আরেকজনের কাছে রয়েছে”

পোল অ্যাড করা

আপনি যখন ভিডিও আপলোড করতেছেন তখন আপনি চাইলে কিন্তু পোল যোগ করতে পারেন। ভিডিও মাঝখানে প্রশ্ন আসবে যে আপনার প্রোডাক্টটা কি ভালো লেগেছে? “হ্যাঁ” নাকি “না”। এভাবেই ইউজারদের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই জিনিসগুলো আপলোড দেওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।


আপলোডের পর করণীয়

ভিডিওটি আপলোড করার সাথে সাথে আপনার যে গ্রুপ আছে সেখানে শেয়ার করে দেন। খেয়াল করেছেন এখন কিন্তু আপনার সেই গ্রুপটা কাজে লাগছে। পেজে আপলোড দোয়ার পর পেইজের অডিয়েন্স না কিন্তু সেই ভিডিওটা দেখছে। কিন্তু গ্রুপে শেয়ার করার করেন গ্রুপের মেম্বাররা ও দেখতে পাচ্ছে। সব সময় চেষ্টা করবেন যেন কোন একটি ভিডিও আপলোড দেওয়ার সাথে সাথে যেন সেটি শেয়ার করেন।

তার কারণ হলো কোন একটি ভিডিও প্রথম এক ঘন্টায় যত বেশি মানুষ দেখে  ফেসবুকের অ্যালগরিদম মনে করে সেটা তত বেশি জনপ্রিয়। তার মানে আপনি যদি ভিডিওটি একদিন পর শেয়ার করেন সেক্ষেত্রে সেটা বেশি কার্যকর হয় না। তাই সবসময় সাথে সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করবেন। এভাবে যদি সাথে সাথে অনেকগুলো ভিউ  একসাথে জোগাড় করতে পারেন, তাহলে  ফেসবুক অনেকের নিউজফিডে আপনার ভিডিওটি দেখাবে। কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভেবেছে আপনার ভিডিওটা অনেক পপুলার। তার কারণ হলো ভিডিওটা খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি ভিউ পেয়েছে।  

তাই ভিডিও আপলোড হওয়ার সাথে সাথে যতগুলো জায়গায় শেয়ার করা সম্ভব সেটা হতে পারে আপনার নিজের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে আপনার বন্ধুদের প্ল্যাটফর্ম এবং আপনার যে সকল গ্রুপ সেগুলোতে শেয়ার করে দিবেন।

কমেন্ট করুন

ভিডিও আপলোড করার পর নিচের কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই একটি কমেন্ট করুন। কারণ যাদের আপনার ভিডিওটা দেখে ভালো লেগেছে তারা কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করবে। তাই কমেন্ট অপশন এ ক্লিক করেও যেন আপনার কমেন্টটা দেখতে পারে।

যারা যারা আপনার ভিডিওতে কমেন্ট করছে তাদের প্রত্যেকটি কমেন্টের উত্তর দিবেন। যারা যারা শেয়ার করছে তাদের প্রতিটি শেয়ারের একটা করে কমেন্ট করে আসবেন। কারণ যারা আপনার ভিডিওতে কমেন্ট করছে এবং শেয়ার করছে তারা আপনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমার। তার আপনার প্রোডাক্টটি সবথেকে বেশি ভালোবাসে। তাই ওই মানুষগুলোর সাথে একটা পজেটিভ রিলেশন তৈরি করুন।

কারন তারা একটা কিছু বলল যে আপনাদের প্রোডাক্ট  টা  খুবই ভালো। কিন্তু আপনি এর কোন উত্তর দিলেন না। তাহলে কিন্তু কাস্টমারের সাথে ভালো রিলেশন তৈরি হবে না।

ভালোভাবে মার্কেটিং করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার কাস্টমারের  সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরী করতে হবে । তাদের প্রতিটা কমেন্টের উত্তর দিতে হবে শেয়ারে গিয়ে কমেন্ট করতে হবে।

উপরের টিপসগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে দেখবেন আপনার গ্রোস অনেক তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি হচ্ছে। এরপরও আরো বেশ কয়েকটিজিনিস আছে যেগুলো আপনার ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেমন সময় মেইনটেইন করা। মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময়, সময় মেইনটেইন করাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

কিভাবে সঠিক সময় নির্বাচন করবেন

মনে করুন সপ্তাহের সাত দিনের ভিতরে কোন দিন পোস্ট দিলে বেশি মানুষ দেখে সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। যদি কোন একটা প্রোডাক্ট বিক্রি করেন অনেক সময় দেখবেন শুক্রবার মানুষ বেশি প্রোডাক্ট কিনে। কারণ শুক্রবার মানুষ বাসায় থাকে ঐদিন অর্ডার টা দে। যেন শনিবারে প্রোডাক্টটা চলে আসে।

এটা যদি জানেন তাহলে তো আপনি আর রবিবারে মার্কেটিং করবেন না। তখন হয়তো আপনার বেস্ট ভিডিওটা আপনি বৃহস্পতিবার রাতে দিবেন। যে আগামীকাল শুক্রবার থাকার কারণে বৃহস্পতিবার এ মানুষ বেশি পরিমাণ ভিডিও দেখে সেখানে অর্ডার করে এবং প্রোডাক্টের শুক্রবারে চলে আসে। এই ছোট ছোট দিকগুলো মার্কেটিং করার সময় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

শুধু কি সপ্তাহের দিনটি খেয়াল রাখবেন? অবশ্যই না! তখন আপনাকে ভাবতে হবে কখন মানুষ ভিডিও বেশি দেখে। সেটা কি সকাল আটটা না রাতে আটটা। এখন হয়তো আপনারা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন সকাল আটটায় না দিয়ে  রাত আটটা দিলে ভাল হয়। তার মানে সাপ্তাহে কোন দিন পোস্ট করা উচিত, কোন সময় পোস্ট করা উচিত, কোন সময় পোস্ট করলে বেশি মানুষ দেখবে,সেই বিষয়গুলোর উপর খেয়াল রাখে আপনাকে পোস্ট করতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং এই যে বিষয়গুলো কথা বললাম  এগুলো যদি সঠিকভাবে মেনে চলেন এ ফর্মুলা গুলো যদি ব্যবহার করেন এবং ফেসবুক গ্রুপ এবং পেজ একই সাথে ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড করার যে টিপস গুলো বললাম সেগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনার ফেসবুক মার্কেটিং আরো ইফেক্টিভ হবে এবং আপনি আস্তে আস্তে আপনার পেজ এবং গ্রুপের কমিউনিটি আরো স্ট্রং করতে পারবেন।এবং অর্গানিক ভাবে  আপনার প্রোডাক্টি সহজেই অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। আশা করি পুরো ব্যাপারটা আপনি বুঝতে পেরেছেন। এরপরেও যদি কোন কিছু বোঝার বা বলার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ!

659277_637199674098468958_16x9

ছাত্রজীবনেই যে ১০ সফটওয়্যারের কাজ শেখা উচিত

নিজেকে এগিয়ে রাখতে ছাত্রাবস্থায়ই কিছু কিছু সফটওয়্যারের কাজ শেখা শুরু করা উচিত। জেনে নিন এমন ১০ সফটওয়্যারের কথা।

১. লেখালেখির জন্য

এখনকার সময়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড না শিখে, না জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়া এক রকম অসম্ভব। শুধু লেখালেখা নয়, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে আরও নানা ধরনের কাজ করা যায়। চাইলে ছবি, নকশা, গ্রাফ বসিয়ে কোনো গবেষণাপত্র চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা যায় এই সফটওয়্যারে।

২. প্রেজেন্টেশনের জন্য

বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা মানবিক যে বিভাগেই পড়ুন না কেন, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন তৈরি ও উপস্থাপন আপনাকে জানতেই হবে। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিষয়ের কোনো না কোনো কোর্সে প্রেজেন্টেশন বাধ্যতামূলক থাকে। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট নিজে না জানলে পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

৩. হিসাব-নিকাশে উপকারী

মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যারটির ব্যবহার ও প্রয়োগ জানা এখন বেশ গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। একটা সময় ধারণা ছিল, মাইক্রোসফট এক্সেল শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জানা থাকলেই হলো। সময় এখন অনেক বদলেছে। বিজ্ঞান কিংবা বাণিজ্য যা-ই পড়ুন না কেন, তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপনের জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল শেখা খুব জরুরি। মাইক্রোসফট এক্সেলের কাজ জানা থাকলে আপনি সেটি সিভিতেও যোগ করতে পারবেন।

৪. বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য

বিজ্ঞান, প্রকৌশল কিংবা গণিতে পড়ুয়াদের জন্য এমএটিল্যাব বা ম্যাটল্যাব সফটওয়্যার সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা বিশ্লেষণ, অ্যালগরিদম তৈরি কিংবা গাণিতিক মডেল তৈরির জন্য ম্যাটল্যাব খুব কাজের। এখন বিশ্লেষণধর্মী পড়াশোনা ও গবেষণার গুরুত্ব বাড়ছে, কর্মক্ষেত্রেও তথ্য বিশ্লেষণ-অ্যালগরিদম নিয়ে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানের সব শিক্ষার্থীরই ম্যাটল্যাব সম্পর্কে জানা উচিত।

৫. ছবি সম্পাদনা

প্রেজেন্টেশনে ভালো ছবি উপস্থাপনের জন্য কিংবা কর্মক্ষেত্রেও হঠাৎ ছবি সম্পাদনার কাজ প্রয়োজন হতে পারে। প্রেজেন্টেশনে আপনি যা বোঝাতে চাইছেন, ঠিক আপনার মনের মতো ছবি হয়তো গুগলে পাবেন না। অ্যাডোব ফটোশপের কাজ জানা থাকলে ছবিগুলো একটু সাজিয়ে নিতে পারবেন। এতে আপনার প্রেজেন্টেশন আরও আকর্ষণীয় হবে।

৬. ভিডিও সম্পাদনাও জরুরি

এখন শখের কাজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রজেক্টেও শিক্ষার্থীরা ভিডিওচিত্রের সাহায্য নেন। ভিডিও সম্পাদনা আর দৃষ্টিনন্দন ভিডিও ক্লিপ তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে মাইক্রোসফট মুভি মেকার দিয়ে কাজ চালানো যায়। আরেকটু ভালো মানের কাজের জন্য অ্যাডোব প্রিমিয়ারের মতো সফটওয়্যার শিখে নিতে পারেন।

৭. আঁকাআঁকি, নকশা ও গ্রাফিকস

টুকটাক নকশার কাজ নানা প্রয়োজনেই আমাদের করতে হয়। নিজের প্রয়োজনে অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটরের কাজ শিখে নিলে গ্রাফিকস-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ বেশ সহজ হয়ে যায়। বিজ্ঞান ও স্থাপত্য বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বা সিএডি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে নানান প্রজেক্ট আর গবেষণায় সিএডি ধরনের সফটওয়্যারগুলোর বিভিন্ন প্রয়োগ দেখা যায়। অটোক্যাড আর ভেক্টরওয়ার্কসও শিখে রাখতে পারেন।

৮. তথ্য গবেষণার জন্য

বাজার বিশ্লেষণ, গবেষণা ব্যাখ্যা কিংবা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এসপিএসএস স্ট্যাটিস্টিকস সফটওয়্যার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরু থেকেই এ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত। এই সফটওয়্যারটির বহুমাত্রিক ব্যবহার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নয়, যেকোন ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োগ করা হয়।

৯. ব্যবসা-বিপণনে যা প্রয়োজন

যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়ছেন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে নিজের উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করবেন, তাঁদের জন্য হিসাববিজ্ঞান ও গ্রাহক সেবাসম্পর্কিত সফটওয়্যার জানা থাকা ভালো। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোটাই অনলাইনে চলে এসেছে। এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স সফটওয়্যার এসএপি, গ্রাহক সেবাসম্পর্কিত সফটওয়্যার সেলসফোর্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের জন্য ট্যালি সফটওয়্যার সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান থাকা দরকার।

১০. আরও যা জানা জরুরি

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও রেফারেন্সিংয়ের জন্য এন্ডনোট সফটওয়্যারটি শিখে নিতে পারেন। নিজের পোর্টফোলিও বা জীবনবৃত্তান্ত নিখুঁতভাবে তৈরির জন্য অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট রিডার-এডিটর ও ফক্সিট পিডিএফ এডিটরের কাজ শিখলে সেটিও কাজে আসবে।

google-search-getting-continues-scrolling-feature-all-you-need-to-know

আরও সহজ হচ্ছে Google Search, আসছে এই চমৎকার ফিচার

বেশি ভিজিটর পাওয়ার জন্য Google Search-এ টপ র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার চেষ্টা সমস্ত ওয়েবসাইটই করে থাকে। কেউ সার্চ করলে যেন Google-এর ফার্স্ট পেজেই তাদের খুঁজে পায় – এমন ভাবনা প্রায় সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা পাবলিশরদের মাথাতেই থাকে এবং সমসাময়িক কম্পিটিটরদের মধ্যে Google Search করলে কোন পেজে কাকে আগে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে এই নিয়ে একটা রেষারেষিও চলতে থাকে। কিন্তু এবার থেকে হয়তো মোবাইলের ক্ষেত্রে এই টক্কর আর দেখা যাবে না, কারণ মোবাইল ডিভাইসগুলির জন্য Google নিয়ে এসেছে এক নতুন ফিচার।


টেক জায়েন্টটি ঘোষণা করেছে যে, কোনো কিছু জানার জন্য মোবাইলে গুগল সার্চ করলে এখন আর ফার্স্ট পেজ, সেকেন্ড পেজ বলে কিছু থাকবে না, ইউজাররা ক্রমাগত স্ক্রল করতে থাকলেই একের পর এক রেজাল্ট তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। উল্লেখ্য যে, আগে গুগল সার্চ করলে ফার্স্ট পেজে কিছু রেজাল্ট পাওয়া যেত, তারপর “See more” বাটনে ক্লিক করলে ইউজাররা সেকেন্ড পেজে আরও কিছু রেজাল্ট দেখতে পেতেন এবং এইভাবে ক্রমাগত চলতে থাকত। কিন্তু এখন মোবাইলে একের পর এক সার্চ রেজাল্ট দেখার জন্য ইউজারদের আর কোনো বাটন আলাদা করে প্রেস করতে হবে না, ক্রমাগত স্ক্রল করতে থাকলেই তাদের চোখের সামনে পরপর সার্চ রেজাল্টগুলি আসতে থাকবে।


আসন্ন এই ফিচারটি সম্পর্কে একটি ব্লগ পোস্টে গুগল বিশদে ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থার মতে, অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যে সকল মানুষ গুগল সার্চ করেন, তারা বড়জোর চার নম্বর পেজ পর্যন্ত ব্রাউজ করে থাকেন। কিন্তু এই নতুন আপডেটের ফলে ইউজাররা এখন নির্বিঘ্নে তাদের হাতের মুঠোফোনে যতক্ষণ খুশি গুগল সার্চ করা চালিয়ে যেতে পারবেন, কোনো এক্সট্রা বাটন প্রেস করার প্রয়োজন হবে না।নতুন এই ফিচারটি ধীরে ধীরে রোলআউট হওয়া শুরু হবে। এটি সর্বপ্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপলব্ধ হবে এবং ইংরেজি ভাষায় Search রেজাল্টের জন্য কাজ করবে। তবে বিভিন্ন ভাষায় Google Search রেজাল্ট সহ অন্যান্য দেশে এই ফিচারটির সুবিধা কবে থেকে পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।